মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মমতাজ হাসপাতাল

মমতাজ হাসপাতালঃ সাধারণ রিক্সাচালকের অসাধারণ উদ্যোগ

 

 

পূর্বকথাঃমমতাজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদিনের পিতা-মৃত-আব্দুল গনি অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তখন জয়নাল আবেদিন সাহেব এর বয়স ১৫/১৬ বছর। বিনা চিকিৎসায় পিতার করুণ মূত্যুতে কিশোর জয়নাল চরমভাবে আঘাত পান এবং প্রতিজ্ঞা করেন বড় হয়ে নিজের উপার্জিত অর্থ দ্বারা এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবেন। অতঃপর তিনি ঢাকা চলে আসেন এবং রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন এবং স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তার কষ্টাজিত অর্থ কিছু কিছু জমা করতে থাকেন। দীর্ঘ দিনের জমাকৃত অর্থ দ্বারা ২০০০ সালে মমতাজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

 

 বর্তমান অবস্থাঃ২০০০ সালে ময়মনসিংহ সদরের প্রত্যন্ত ইউনিয়ন পরানগঞ্জের টানহাসাদিয়া গ্রামে ২৪(চবিবশ) শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে বর্তমানে গড়ে ১০০ জনের অধিক গরীব রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়ে আসছে। মহানুভব এই রিকসা চালকের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দ্রুত দেশের প্রচার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম আলো সহ জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জুলাই, ২০১১ সালে দৈনিক প্রথম আলোয় রিক্সা চালিয়ে হাসপাতাল শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সুধী মহলে তার এই মহান কর্মকান্ডের বিষয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে। প্রথম আলো ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

 

 বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী পূষ্ঠপোষকতায় হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে । দুইজন ডাক্তাকর গরীব রোগীদেরকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিগত নভেম্বর, ২০১১ মাননীয় মন্ত্রী জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মমতাজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাড় করানোর বিষয়ে জয়নাল আবেদিনকে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন। উলেলখ্য যে, হাসপাতালের পাশাপাশি তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরিচালনা করছেন যেখানে ১৫০ জন গরীব ছাত্র-ছাত্রী ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করছেন এবং শিক্ষক ৩ জন।

 

 প্রতিষ্ঠানটির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণঃ  ক) জমি ঃ  ১.৫ একর যা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত । যার মূল্য ২৫ লক্ষ টাকা। খ) ঘর ঃ  ২টি (টিনশেড) একটিতে স্কুল ও অপরটি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহদত হচ্ছে ।  গ) রোগীর বেডঃ  ৬টি ঘ) আসবাবপত্রঃ টেবিল ৩টি, চেয়ার ২৩টি ও ফ্যান ৬টি ঙ) ব্যাংক আমানতঃ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠানের নামে জমা আছে।  চ) স্থায়ী আমানতঃ ঢাকা ব্যাংকে এফডিআর প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা ।

 

=১=

 হাসপাতালের জন্য উলেলখ্যযোগ্য অনুদান সমূহঃ

 

  1. তাসমিয়াহ গ্রুপ কর্তৃক একটি গাভী এবং কিছু ঔষধ ।
  2. জনৈক নাছির সাহেব অনুদান বাবদ ২ লক্ষ টাকা ।
  3. মাননীয় মন্ত্রী জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মহোদয় হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জমি কেনার ব্যবস্থা করেছেন।
  4. জনৈক ফজলুর রহমান পাটোয়ারী নামক ব্যক্তি কর্তৃক অনুদান বাবদ ২ লক্ষ টাকা প্রদান ।
  5. প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যাল ৫ হাজার টাকার ঔষধ ও খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে আসছেন।
  6. কুয়েতবাসী জনৈক ব্যক্তি হাসপাতালের অনুদান বাবদ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ।
  7. বিদেশ ফেরত জনৈক ব্যক্তি স্কুলের জন্য ৬০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।
  8. জেলা পরিষদের পক্ষ হতে ২০ হাজার টাকার ঔষধ প্রদান।
  9. জেলা সমবায় মাধ্যমে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ঔষধ প্রদান।
  10. ডঃ মনিলাল আইস লিটু কর্তৃক একটি নাক, কান, গলা চিকিৎসা ক্যাম্প এবং অপসোনিন কর্তৃক ২২ হাজার টাকার ঔষধ প্রদান ।
  11. ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক আসবাবপত্র প্রদান ।
  12. প্রথম আলো ট্রাস্ট প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা প্রদান । যা বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকে এফডিআর করা আছে।

 

   এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক (নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক) আনুমানিক প্রায় ৪ লক্ষ টাকা প্রদান । যা সম্প্রতি

হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।

 

 

 সরকার  কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমঃ  জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ বিভিন্ন সময়ে জয়নাল আবেদিন সাহেবকে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে জয়নাল সাহেবের বাড়ি তথা মমতাজ হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তাটি পাকা করণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ,ময়মনসিংহের উদ্যোগে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

 

 প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রাপ্ত সম্মাননাঃ১) এসো বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক রোড শো হতে সম্মাননা এবং ক্রেষ্ট প্রদান  ২) শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ  বেইজ আজিজুর রহমান পাটোয়ারী পুরস্কার, ২০১০  ৩) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ইতিহাস সংরক্ষণ প্রকল্প কর্তৃক সম্মমনা প্রদান ৪) নিরাপদ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক বিশ্ব দৃষ্টি দিবস সম্মননা পদক, ২০১০  ৫) জেলা সমবায় কর্তৃক সম্মাননা প্রদান ৬) সমাজ উন্নয়নের স্বীকৃতি স্বরুপ অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থ্য কর্তৃক সম্মাননা প্রদান ।

 

 সাদা মনের মানুষ জয়নাল কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান সমূহঃ১) মমতাজ হাসপাতাল, স্থাপিত- ২০১১   ২) টানহাসাদিয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-২০০৭

 

জয়নাল আবেদিনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃনামঃ মোঃ জয়নাল আবেদিন, পিতামৃত-আব্দুল গনি, মাতা-জয়গুননেছা,

ঠিকানাঃটানহাসাদিয়া, পরানগঞ্জ ইউনিয়ন, ময়মনসিংহ সদর, শিক্ষা-নিরক্ষর, পেশা-রিকসা চালক, তার স্বপ্নঃ মমতাজ হাসপাতাল এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও বিদ্যা লাভের অনন্য পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তোলা ।

=২=